Wednesday, November 28, 2007

মিছিলের গান


গা গান গান গান গান তুই গান গেয়ে যা
ঠোঁটে তুলে নে কোনো অমিত শ্লোগান
এ পথ ধরে ধরে হেঁটে চল বহুদূর
পিছে পড়ে থাক সব চেনা অভিমান।

ঐ আকাশে আকাশে কতো রঙ রোদ হাসে
কতো চেনা সুর ইশারায় ছুঁয়ে যায়
অন্ধ বধির এই থাকে পরবাসে
মুখরতা ডাকে সে ফিরে আসেনা
ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম চোখে চোখ বুজে রয়
আগামীর গান থাকে স্মৃতির ছায়ায়

ঐ মিছিলে মিছিলে ভাসে লাশ, লাশ ভাসে
প্রান্তরে পড়ে থাকা প্রান্তিক মুখ
সব দেয়ালে দেয়ালে লেখা প্রতিবাদ গান
বুলেট রুখে দেয় মানুষের বুক
ঐ সূর্য সারথী পাখি গান গেয়ে যায়
ঘুম চোখে জেগে ওঠে ভোরের মায়ায়।



মিছিলের গান

Tuesday, November 27, 2007

আড়াল বোধ পরাজয়


সেদিনের পর থেকেই কিছু কথা পাঠাতে গেলেই
একগাদা সংকোচবোধ তাড়া করে আমায় ;
যদিও মাঝে একবার কী যেন লিখে পাঠিয়েছি
কিন্তু সে আড়ালটা আর থাকছে না...
কবিতা ভালোবাসি, তাই কবিতা প্রতিদিন
গান ভালোবাসি, তাই চলে আসে প্রিয় গান;
যদিও মাঝে একবার কী গান যেন শুনিয়েছি
কিন্তু সে আড়ালটা আর থাকলো না...
আজ সেই আড়াল নেই
আজ সেই কথা নেই
নেই আজ সেই প্রিয় গান
কবিতাগুলিও কেমন যেন হয়ে গেছে
মাঝে মধ্যেই ধমকে উঠে....
তাই ভাবি, কেন যে এতো বুঝি!!!

Monday, November 26, 2007

কী বিস্ময়কর পৃথিবী আমাদের!


সবুজ বৃক্ষরাজি আর লাল গোলাপের সমাহার
দেখে যাই সবকিছুই, চোখ এড়িয়ে যায়নি-
তাদের ফুটে উঠা- আমাদের হৃদয়ের আলোড়ন
ভাবনা জাগে, কী বিস্ময়কর এই পৃথিবী আমাদের!

দৃষ্টি উড়ে নীলাকাশে- চরে বসে শুভ্র মেঘের ভেলায়
ঘুম ভাঙতেই দেখি সূর্যের আশীর্বাদপুষ্ট সোনালি দিন
নিকষ কালো পবিত্রতার ছোঁয়া মিলে নয়নের আলোয়
ভাবনা জাগে, কী বিস্ময়কর এই পৃথিবী আমাদের!

রংধনুর সাতরঙা অস্পৃশ্য প্রতিচ্ছবিটা আগলে রাখে চোখ।
রং সারা পৃথিবী জুড়ে, যারা যাচ্ছে চলে পাশ কাটিয়ে
বন্ধুদের হাত মিলানো আর কুশল বিনিময় দেখে যাই-
ভাবনা জাগে, তারা বলে যায় "তোমায় ভালোবাসি"।

শিশুদের কান্নাও শুনেছি আবার বেড়ে উঠাও দেখেছি
অবাক হয়ে জেনেছি ওরাও অনেক কিছু্ই শিখে যাচ্ছে...
কতোই না রহস্য সর্বত্র! কী সুন্দর এই বেঁচে থাকা!
ভাবনা জাগে, কী বিস্ময়কর এই পৃথিবী আমাদের!

ডিসক্লেইমারঃ
Kenny G's What a wonderful world গানের আলোকে নিজের মতো করে কবিতা লেখার চেষ্টা করলাম। এ গানটার জন্য একজনের ধন্যবাদ প্রাপ‌্য। তবে এখানে সে ঋণ শোধ নাই বা করলাম!

Friday, November 23, 2007

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ হতে রৌদ্রদগ্ধ কালো ধোঁয়ার পথ

অশুচি আমি নিছক ভাবনার খেয়ালে শুচি হই
অবান্তর প্রশ্নটা শুধাই নিজেকে 'কেমন আছো?'
'ভালো' জবাবটা শোনালো প্রবোধের মতোই ।
হেসে ওঠি, পরম আমার জবাবটাও ঠিক তাই!
'ভালো নেই' বলতে বলতে বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়ি
অলস আমি বলি 'ভালো'। কারণ দর্শাতে হয় না।
জোর-করা একটা হাসি নিয়ে আসি- বিভ্রান্তিকর।
মনে মনে বলি 'বোকা'। অশুচি হয়ে বলে যাই-
কারো ছোঁয়া চাই না। সুখ হোক কিংবা দুঃখ!
ভোতা কিছু অনুভূতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই
সদা গতিশীল সমাজে পরিবর্তনশীল প্রাণী- মানুষ;
আদর্শ বজায় রেখে সামাজিকতা দেখাতে পারি কই!

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছেড়ে রৌদ্রদগ্ধ কালো ধোঁয়ার পথে
কতো ভীড়! সবার মাঝে একাকী বসে আছি বাতাস ঘেঁষে
সাদা পাতায় কালিমা লেপছি আবোল তাবোল...
ছোটলোক। ভালোবাসা বুঝিনা। পাগল। কুপমন্ডুক।
হরেক উপাধি নিয়ে বিচরণ করে বেড়াচ্ছি প্রতিনিয়ত।
শ্লোগান শ্লোগানে মুখরিত তাই সত্ত্বার ভিতর-বাহির-
"বিকৃত সময়ে বিকৃত মনোভাবে বিকৃত মানুষগুলোর রুচি
চিৎকার করি জ্বলে পুড়ে ছারখার তবুও আমি নাকি অশুচি!"

Tuesday, August 28, 2007

ভাবনাদের টানাপোড়নে

কেন্ এমন কইরা বদলইয়া যায় ভাবনাগুলা?
ঘরের মইধ্যে থাইক্যা কয়-

মন জুড়ে আমার গোটা আকাশ;
গগন-মনন আমার আমি।
আকাশতলে গিয়া বইল্যা ওঠে-
ঘর যে টানে বড়ো,
আকাশ মোরে ছাড়ো;
ঘরের মায়া যায় না ভোলা!
ঘরবাহিরের টানাপোড়নে

অসীম জ্বালা এই অন্তরে;
প্রার্থনা তাই তাঁহার সনে-
স্থির করো এই মনটারে।

Wednesday, June 27, 2007

কফির কাপ হাতে আলোকিত সন্ধ্যায়

প্রথম চুমুকঃ

ঠান্ডা হয়ে এসেছে প্রায়- বিচ্ছিরি ধরনের কটুস্বাদ।

শরীরের কেমন যেনো বিদ্রোহ প্রকাশ।

দ্বিতীয় চুমুকটা কেমন হবে সেই অপেক্ষায় চিন্তাযুক্ত।

তবে অপেক্ষার অবসান তার বাহকের কাছেই।

বাহক আমি, নেবো নেবো করেও চুমুক দেয়া হচ্ছে না।

লাল-সাদার এই কফির মগের সাথে চলছে এ কেমনতর খেলা!

অবশেষে...


দ্বিতীয় চুমুকঃ

একটা মশা এসে বসলো মধ্যমায়-বাঁ-হাতের তর্জনী উদ্ধত হয়ে উঠতেই

দিলো এক উজাড় উড়াল- গন্তব্য কোথায়!

ওহ! যা বলছিলাম, এই চুমুকেও ব্যতিক্রম কিছু হলো না,

আমার ক্ষীণতনু আবারো বিদ্রোহ প্রকাশ করছে।

এই একাকী সন্ধেবেলায় এই ঠান্ডা হয়ে আসা গাঢ় রঙের তরল পদার্থ তার ভালো লাগছে না কিছুতেই।

আর মননশীল আমার মনের তো কোনো খোঁজই নেই

সে যেকোনো উপায়ে মনের মানুষটাকে চাচ্ছে- ভালোবাসা!

তৃতীয় বারের মতো শরীরের উপর আবার অত্যাচার শুরু...


তৃতীয় চুমুকঃ

"এ কেমনতর স্বাদরে কফির!? অসহ্য"

চেঁচিয়ে উঠলো রক্তমাংসের শরীরটা।

"ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কফি কেউ খায় নাকি!? অসহ্য"

বলতে বলতে তিরস্কার করতে থাকলো আমায়।

আমিও আর কালক্ষেপণ না করে চতুর্থবারের মতো ঠোঁটে তুলে দিলাম।


চতুর্থ চুমুকঃ

গর্জে উঠলো স্বাদগ্রন্থিগুলি, "দূরছাই!!

একী অত্যাচার আমার উপর! বন্ধ কর্ বন্ধ কর্।"

শরীরের অবিরাম ভৎসর্ণা তিরস্কারে মন ফিরে

এই ছোট্ট যন্ত্রসংগীতমুখর আলোকিত ঘরটায়।

মন ফিরে আসে তার সনাতন সেই আবাসস্থলে।

অবাক হয়ে ভাবে কত্তো মানুষ! নারী-পুরুষে

গমগম করছে ঘরখানা; তবু সে শুনেনা কিছুই

এই ভীড়ের মাঝে সে ভীষণ একা। হারাই হারাই ভাব!

"এই যে!" ফুসে ওঠে ১০৯ পাউন্ডের দেহখানা;

"কী হলো?? ভয়ে ভয়ে জবাব দেয় আমার মন।

"আমার উপর কী অত্যাচার হচ্ছে দেখেছিস? ঠান্ডা বিচ্ছিরি টাইপের কফি নামক বিষ আমায় খাওয়ানো হচ্ছে বিরতি দিয়ে দিয়ে। তুই কী করছিস?!"

"ওহ! তাই নাকি! কই দেখি তো এক চুমুক খেয়ে।"

প্রথমবার দেহমনের সমন্বয়ে হাত বাড়ালাম কফির কাপটার দিকে পঞ্চমবারের জন্যে..

কিন্তু একী! তলানীতে পড়ে আছে কয়েক ফোঁটা।

কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বেয়ারা এসে নিয়ে গেলো এতক্ষণের সঙ্গীকে।

দেহ-মনের আবার বিচ্ছেদ।

দেহের তৃষ্ণা পঞ্চম চুমুকের... উঠে দাড়ায় চেয়ার ছেড়ে।

মনের তৃষ্ণা ভালোবাসার... হারায় অজানায় অচেনায়।

পরিশিষ্ট:

তুই আসিসনি এখনো বন্ধুদের আড্ডায়

ক্লান্ত দিনের শেষে কোনো ক্যাফেতে

কফির কাপ হাতে আলোকিত সন্ধ্যায়

ভাসাসনি আমাকে তোর হাসিতে।

বাবুইয়ের বুনে চলার অবিরাম চেষ্টাতে

নেমে আসছে নিরাশার ছায়াপরিত্যক্ত হচ্ছে একে একে নীড়গুলো

পরিশ্রান্ত আমার ভালোবাসা।

_______________________________

স্থানঃ ক্যাফে লা ভারেন্দা, আলিয়্যঁস ফ্রস্যেঁজ, ঢাকা।কালঃ ১৮:৪৫


*****পরিশিষ্ট অংশ 'বাংলা এভিনিউ'র 'চন্দ্রাস্ত' গানের কয়েকটি লাইন। গানখানার লিংক দিলামঃ চন্দ্রাস্ত

Saturday, February 17, 2007

"বাবা, আপনাকে খুব ভালোবাসি"

এ যে রক্তের সাথে রক্তের টান- স্বার্থের অনেক ঊর্ধ্বে...
"বাবা, আপনাকে খুব ভালোবাসি।" কথাটা আজ পর্যন্ত বলতে পারিনি। ছোট বেলায় বলেছিলাম কিনা মনে নেই। কিন্তু বুঝে উঠা শিখার পর বলেছি কিনা মনে পড়ে না। অথচ বাবা কতোই না আপন।
মা-কে তুমি বললেও বাবাকে সবসময় আপনি করেই বলে এসেছি। আজও বলি। দূরত্ব? তা মনে করি না। বাবার সাথে গান শুনতাম আগেও, এখনো শুনি। যার সাথে নিজের সবচেয়ে প্রিয় কাজটি শেয়ার করতে পারি, তার সাথে কীসের দূরত্ব! বাবার সাথে সম্পর্কটা ঠিক কেমন জানি, বুঝি না। পাঁচ ভাইবোনদের মধ্যে সবার ছোট আমি। আমার প্রতি সবার ভালোবাসাটা একটু বেশীই। সবার চিন্তা আমাকে নিয়ে। স্নেহের জোয়ারে এখনো ভাসি যখনতখন।
সেদিন অবরোধ ছিলো। খুব জরুরী কাজে মতিঝিল যাওয়া খুব প্রয়োজন। আম্মাকে কোনোভাবে ম্যানেজ করলাম। আব্বা কিছুতেই রাজি হলেন না। তাঁর এক কথা- “টাকা-পয়সার ক্ষতি হলে হোক, যাওয়ার কথা মুখে এনো নাÓ।
আমার এক বন্ধুর কথা বলিঃ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময় সে কয়েকটা পরীক্ষা দিয়ে পলাতক হয়েছিলো (ভেবেছিলো ফেল করবে কিন্তু করেনি, এই না হইলো নটরডেমিয়ান!)। অনেকটা দেশভ্রমণের মতো। বেশ কিছুদিন পর সে বাসায় ফিরলো। তখন ওর বাবা ওকে ডেকে নিয়ে পাশে বসায়। তারপর ছেলেকে জড়িয়ে ধরে সে কী কান্না। বন্ধুটি ভাবতো, বাবা একটা কাঠখোট্টা মানুষ। তার ভুল ভাঙলো। আসলে বাবারা হয়তো আবেগ তেমন করে প্রকাশ করেন না।
বাবা- যার জন্যে মাকে পেয়েছি, আমি আমি হয়েছি, কতো ভালো চারটি ভাই-বোন পেয়েছি, অসীম ভালোবাসায় এতোদূর এসেছি, তাকে সহস্র সালাম। শুধু মুখ ফুটে বলতে পারি না "তোমাকে ভালোবাসি বাবা"।
জানাতে যতো যাই কথায় হারাই ততোই মানে, ভালোবাসি তোমায় তাই জানাই গানে...

"ছেলে আমার বড়ো হবে"
মাকে বলতো সে কথা,
"হবে মানুষের মতো মানুষ একলেখা ইতিহাসের পাতায়"
নিজ হাতে খেতে পারতাম নাবাবা বলতো,
"ও খোকা! যখন আমি থাকবো না, কী করবি রে বোকা! "
এ যে রক্তের সাথে রক্তের টান-
স্বার্থের অনেক ঊর্ধ্বে
হঠাৎ অজানা ঝড়ে তোমায় হারালাম
মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো;
বাবা কতোদিন কতোদিন দেখিনা তোমায়
কেউ বলেনা তোমার মতো
"কোথায় খোকা! ওরে বুকে আয়।"
বাবা কতোরাত কতোরাত দেখিনা তোমায়
কেউ বলেনা "মানিক, কোথায় আমার! ওরে বুকে আয়।"
চশমাটা তেমনি আছে,আছে লাঠি ও পাঞ্জাবী তোমার,
ইজি চেয়ারটাও আছে নেই সেখানে
অলস দেহ শুধু তোমার;
আযানের ধ্বনি আজ শুনি,
ভাঙাবে না ভোরে ঘুম জানি,
শুধু শুনি না তোমার সেই দ্বরাজ কন্ঠে পড়া
পবিত্র কুরআনের বাণী।
বাবা কতোদিন কতোদিন দেখিনা তোমায়
কেউ বলেনা তোমার মতো
"কোথায় খোকা! ওরে বুকে আয়।"
বাবা কতোরাত কতোরাত দেখিনা তোমায়
কেউ বলেনা "মানিক, কোথায় আমার! ওরে বুকে আয়।"

২০০২ এর ডিসেম্বরে যখন মা-বাবা প্রবাসে গেলেন, ভেবেছিলাম কোন ব্যাপার না। আমি হলাম আবেগহীন মানুষ। কিছুই মনেটনে পড়বে না। কাউকেই না। কিন্তু মনে পড়ে। খুব পড়ে। কাছে পাওয়ার জন্য মনটা কেমন যেনো হয়ে যায়। যখন জেমসের এ গানখানা শুনি তখন হৃদয়ক্ষরণ কে আটকায়! কিছুদিন হলো মা-বাবা দেশে ফিরেছেন। ভাবি অবসর সময়ে কোথাও যাবো না। তাঁদের সাথেই থাকবো। কিন্তু পারি না। কেমন জানি হয়ে গেছি।! সেদিন শুনলাম পথিকের বাবা অসুস্থ; পরদিন শুনি তিনি মারা গেছেন। অজান্তেই চমকে উঠলাম- আমার বাবাও তো একদিন চলে যাবেন। প্রবাসে থাকলে তো অন্তত ফোনে কথা হয়, তখন তো আর কথাও হবে না। ভাবনাগুলোকে তাড়াতে পারি না। সত্যকে একদিন বরণ করে নিতেই হবে। জীবনের একটা সত্য, সেটা হলো মৃত্যু। সবাইকে বিদায় দিতে হবে, বাবা-মা-ভাই-বোন... ভাবি যদি কাউকেই বিদায় না দেয়া লাগতো। সবার আগে আমি চলে যেতাম, তাহলে বেশ হতো।...

Sunday, November 12, 2006

বন্ধুত্ব মানে

বন্ধুত্ব মানে-
মাটি আর আকাশে সুদূরপ্রান্তে সংঘবদ্ধ দাবি,

বন্ধুত্ব মানে-
সাগর-ঝর্ণা মাঝে মিলনের তলে বয়ে চলা কোন নদী।


বন্ধুত্ব এমন একটা শব্দ যার অর্থ আজও বুঝে উঠা হলো না। হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরি। কবিতা-গান। উক্তি। কথোপকথন। গল্প-উপন্যাস-নাটক-সিনেমা। আরো কতো কীসে চলে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা। মাঝে মাঝে আনন্দে লাফিয়ে ওঠি, এই তো বুঝেছি! পরক্ষণেই হোঁচট খাই। ‘নাহ্ ইহা যথার্থ নয়’ বলতে হয়। ধর্মগ্রন্থেও চোখ রাখি; এতো নিয়ম-কানুন! মন মানে না। ধরা-বাঁধা কোন নিয়মের গন্ডিতে বন্ধুত্বকে বেঁধে ফেলতে সে রাজি নয়। সে চায় সর্বদা সর্বস্তরে বন্ধুত্বের অবাধ বিচরণ। মুক্ত বিহঙ্গের মতো। ‘বীক্ষ্যমান’ বিশেষণে বিশেষণীয় হয় না বন্ধুত্ব।


বন্ধুত্বকে শুধু একটি কথায় বা শুধু একটি গানে কিংবা শুধু একটি কবিতায় সংজ্ঞায়িত করা যায়নি; এক কথোপকথনেই সীমাবদ্ধ করা যায়নি তার সীমানা। বন্ধুত্বের গভীরতা প্রকাশ সম্ভব হয়নি একটি মাত্র গল্পে অথবা উপন্যাসে। একখানা নাটক অথবা একখানা সিনেমা বানিয়েই বন্ধুত্বের মডেল বা আইকন স্থাপন করা যায় নি। বন্ধুত্ব নিয়ে লেখা হয়েছে কতো না কবিতা-গল্প-উপন্যাস! বন্ধু বন্ধুকে গেয়ে শুনিয়েছে কতো না গান! কতো না কথোপকথন! কথা চলছে অবিরাম বন্ধুকে নিয়ে। ছোট-বড়ো পর্দায় ভেসে উঠছে কতো না নাটক-সিনেমা! চলছে... চলবেই।


যাকে বন্ধু বলে পরিচয় দেই, কখনো কি ভেবে দেখেছি কেন তাকে বন্ধু বলছি।! না, ভাবি না। বন্ধুত্ব কোন সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা বিচার করে না। বয়সে বন্দি নয় বন্ধুত্ব। লিঙ্গান্তর নিয়ে বিভেদ নেই বন্ধুত্বে। শিক্ষা-অর্থবিত্ত-ধর্ম মানে না বন্ধুত্ব। কখনো কখনো রাস্তার একজন অশিক্ষিত টোকাই বন্ধু হয়ে যায়। বন্ধু শিক্ষিত হতে হবে এমন তো কোন কথা নেই। কখনো কখনো একজন অসুন্দর মানুষ প্রাণের বন্ধু হয়ে যায়। বন্ধুত্বেই পবিত্র সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায়। একজন চরম নাস্তিকও বন্ধু হয়। বন্ধুত্ব যে কখন কোথায় তার স্থান দখল করে তা কেউ বলতে পারেনি, পারবেও না।

জয়... বন্ধুত্বের জয়।।


বন্ধুত্বের অসংখ্য গানের সমারোহ হতে একটি গান, সবার জন্য-


বন্ধুত্ব মানে-
বয়সের সাথে বয়সের মিল নয়
বন্ধুত্ব মানে-
মনের সাথে মনের, গোপনে হয়ে যাওয়া পরিচয়।


বন্ধুত্ব মানে-
একাকীত্বের প্রতি অভিশাপ
বন্ধুত্ব মানে-
খুব প্রয়োজনে, খুঁজে পাওয়া ওই দুটি হাত।


বন্ধুত্ব মানে-
কবিতা কিংবা গানে
শব্দে-বর্ণে ছন্দের মতো নয়
বন্ধুত্ব মানে-
ছবির মতো করে
চোখে চোখ রেখে কথোপকথন নয়।


বন্ধুত্ব মানে-
মাটি আর আকাশে
সুদূরপ্রান্তে সংঘবদ্ধ দাবি
বন্ধুত্ব মানে-
সাগর-ঝর্ণা মাঝে
মিলনের তলে বয়ে চলা কোন নদী।


বন্ধু আমার, যেখানেই থেকে যাও
খুঁজে পেতে পারি হঠাৎ স্মরণে
বন্ধুত্বের ছলে, ছলে-বলে-কৌশলে
ধরা দিয়ো না মিছিমিছি ভালোবেসে;
বন্ধুত্ব মানে-
গোটা পৃথিবীটা তোমার
হতে পারে বন্ধুত্বের দাবিদার
বন্ধু আমার, বন্ধু তোমার,
বন্ধু তুমি হয়ে যেতে পারো সবার।


Friday, July 28, 2006

অমরত্ব তাচ্ছিল্য করেছি

শুধু মৃত্যুর জন্য এই জন্ম,
শুধু মৃত্যুর জন্য কিছু খেলা,
শুধু মৃত্যুর জন্য একা হিম সন্ধেবেলা
ভুবন পেরিয়ে আসা।
শুধু মৃত্যুর জন্য অপলক মুখশ্রীর শান্তি একঝলক।
শুধু মৃত্যুর জন্য এত রক্তপাত, মেঘে গাঙ্গেয় প্রপাত।
শুধু মৃত্যুর জন্য, আরো বেঁচে থাকতে লোভ হয়-
মানুষের মতো ক্ষোভময় বেঁচে থাকা।

শুধু মৃত্যুর জন্য আমি অমরত্ব তাচ্ছিল্য করেছি।।



[বাণী বসুর একুশে পা উপন্যাসে -শুধু কবিতার জন্য এই জন্ম - দিয়ে শুরু একটা কবিতা পড়েছিলাম। তখনই ঐ কবিতার অনুকরণে আমি এই কয়েকলাইন লিখি। কিছু অংশ বাদও দিয়েছি। কবিতাটা ছিলো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। এই কবিতায় আমি কবিতাকে মৃত্য হিসেবেই পেয়েছি।]

Tuesday, April 4, 2006

সেই তুমি আজ

বহুদিন পর হলো দেখা
তোমার সাথে-
যাবার পথে।
এতোদিনে কেটে গেছে,
উড়ে উড়ে ভেসে গেছে
প্রায় তেরশ বছর।
তুমিও অনেকটা বুড়িয়ে গেছো।


ভাবিনি, তবুও আবার
পেলাম তোমার দেখা,
যে তুমি ছিলে আড়ালে- অদেখা।
কিন্তু এতটাই বুড়িয়ে গেলে এখন!


তোমাকেই দেখেছিলাম আমি
প্রথমবার চোখ মেলে
সেই তোমাকেই চেয়েছিলাম দেখতে
চোখ বোজার মুহূর্তে।


সেই তুমি আজ এতটা জীর্ণ!
তুমিও রেহাই পাওনি!


হে বিধাতা!
তুমি এতটাই নিষ্ঠুর কেন??


এপ্রিল ২০০৬