Showing posts with label গান. Show all posts
Showing posts with label গান. Show all posts

Friday, March 14, 2008

ইংরেজির ইংরেজিয়ানা

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:১৩

... ইংরেজি কথা বলি। বাংরেজি গান করি
ইংরেজি ভাব-চক্কর আর ইংরেজি স্বপ্ন দেখি।

ইংরেজি শব্দটা আমরা যখনতখনই ব্যবহার করে থাকি। এমনকি বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে বাংরেজির উৎপত্তি ঘটেছে সেই ইংরেজির কল্যাণে!!! ইংরেজি ভাষা তো আমাদের জানতেই হবে- লেখাপড়ার জন্য, জীবীকা নির্বাাহের জন্য, বর্হিবিশ্বে যোগাযোগের জন্য। তবে আমরা শুধু ভাষা শিক্ষাতেই থেমে থাকেনি; ইংরেজি চালচলন আয়ত্ত্বকরণের চেষ্টা আমাদের অবিরত চলছে। চলবে তো বটেই কারণ ইংরেজরা আমাদের উপর আধিপত্য করে গেছে ১৯০(+) বছর। এখনো কি করছে না!!!!

এখন আসল কথায় আসি। ইংরেজির ইংরেজিয়ানা নিয়ে যে এতো উন্মত্ত, সেই ইংরেজি শব্দ নিজেই ইংরেজি নয়। স্পষ্ট করে বলিঃ ইংরেজ শব্দের অর্থ হলো ইংল্যান্ডের অধিবাসী। তাদের ভাষা, তাদের কাজকারবারই হলো ইংরেজি। তবে ইংরেজ বা ইংরেজি শব্দটার উংপত্তি হয়েছে পর্তুগীজ Engrez শব্দ থেকে। এই শব্দটিই বাংলায় হয়েছে ইংরেজ বা ইংরাজ। এবং এর সাথে 'ই' প্রত্যয় যুক্ত করে হয়েছে ইংরেজি বা ইংরাজি বা ইংরিজি।আমরা বাঙালিরা ইংরেজির ইংরেজিয়ানা নিয়ে মেতে উঠে বাংলার বাঙালিয়ানাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি তা কারো জানা আছে কি?????

আমার মাকে ভালোবাসি
আমার দেশকে ভালোবাসি
তবে আমি জানি না কেন আমি হেট করি
এসব খ্যাঁৎ খ্যাঁৎ খ্যাঁৎ বেঙ্গলি।।....

রক্তজবা ছিঁড়েছে

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৫:০১

উদ্ভ্রান্তের মতো হাঁটছি
আর পাগলের মতো যাকে তাকে বলছি,
জানেন, ওরা আমার রক্তজবা ছিঁড়েছে

কথাগুলি গানখানাতে যতোবারই ধ্বনিত হয়, মনে এক-একটা করে হতাশার জন্ম হয়। তবুও শুনি- যখন তখনই পুরো গানখানা শুনি। কারণ সেই হতাশার সাথে জন্ম নেয় সেই স্পৃহা- যে স্পৃহা জন্ম দেবে সেই বিপ্লব - যে বিপ্লব প্রতিশোধ নেবে সেই ধর্ষকদের - যারা ধর্ষণ করে যাচ্ছে মা-বোন-মেয়ে-প্রেমিকারূপী নারীদের। যারা উন্নয়নের নামে, ধর্মের নামে, দেশ রক্ষার অজুহাতে ধর্ষণ করছে সমাজকে - সর্বোপরি আমাদের মা ও মাটিকে- দেশ ও জাতিকে। সে স্পৃহা যেন বাংলার প্রতিটি মানুষের মনে জন্ম নেয় সেই কামনায় আজকের এই- রক্তজবা

খবরটা শুনে আমি উন্মাদের মতো ছুটলাম
হাসপাতালে
চারিদিকে রক্তের ছোপ ছোপ
ধর্ষিত হয়েছে আমার প্রেমিকা-
আমার রক্তজবা।
চোখ মেলে তাকালো সেই মেয়ে
প্রেমিকের কাছে অভিযোগ
রক্তভেজা শরীরে
"জানো! ওরা ন'জন ছিলো
কতো কাকুতি-মিনতি আমি করলাম
তোমার কথাও ওদের বললাম
জানি তুমি কষ্ট পাবে।
ঈশ্বরকে আমি প্রাণপণ ডাকলাম
উনি হয়তো অন্য কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন
কেন তুমি এতোগুলি বছর আমায় পবিত্র করে রাখলে?
মা মাগো মা! কী ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা!
জানো! ওরা ন'জন ছিলো
কেউ রেহাই দেয়নি।"

যে মহিলা সর্বক্ষণ তিরস্কার করতেন
আজ সে মা হয়ে গেছে
তাঁর চোখেতে আমাদের জন্য মমতা।
দু'জন পুরুষের চোখাচোখির ভাষা
পারবে কি খুনী হয়ে প্রতিশোধ নিতে তোমার রক্তজবার?

হাসপাতাল থেকে বের হলাম
সেই চেনা শহর,
সেই আইসক্রিমের দোকান,
সেই হাসি হাসি মুখ।
কতোটা অত্যাচারের পর প্রতিশোধ নেয়ার স্পৃহা জাগে?
কতোটা প্রতিশোধের জন্য খুনী হওয়াই উচিৎ?
উদ্ভ্রান্তের মতো হাঁটছি
আর পাগলের মতো যাকে তাকে বলছি,
জানেন ওরা আমার রক্তজবা ছিঁড়েছে
জানেন ওরা আমার রক্তজবা ছিঁড়েছে
জানেন ওরা আমার রক্তজবা ছিঁড়েছে
জানেন ওরা আমার রক্তজবা ছিঁড়েছে
জানেন ওরা আমার রক্তজবা ছিঁড়েছে
জানেন ওরা আমার রক্তজবা ছিঁড়েছে
জানেন ওরা আমার রক্তজবা ছিঁড়েছে
জানেন ওরা আমার রক্তজবা ছিঁড়েছে... ...

Saturday, December 29, 2007

বন্ধু, কী খবর বল! কতোদিন দেখা হয়নি... [প্রলাপ]


সময় চলে গেছে এবং চলেছে, চলতি জীবনের গল্প বলছে। পালটে গেলি তুই, আমিও পালটে গিয়েছি মাঝপথে হাঁটতে হাঁটতে...

বড্ড আবেগী এ হৃদয়
আক্রান্ত ক্ষরণে-
কিছু কথা কী এ নশ্বর
জীবনের মানে!

জীবন মানে হাজারো ভঙ্গুর আবেগের সমষ্টিগত সমস্যা!! অ্যাবস্ট্র্যাক্ট আবেগকে ভঙ্গুর সংজ্ঞায়িত করার দায়ভার আমার ঘাড়েই বর্তাবে; লেখালেখিতে কতো না স্বাধীনতা। আর ভার্চুয়াল লাইফ ইজ ফুল অব ফ্রিডমঃ নাথিং টু ওরি এ্যাবাউট অল দ্যা বুল শিট রুলস্‌।। কী-সব প্রলাপ বকে চলেছি, তাই না? শিরোনামের মানদন্ড রক্ষা হয়তো করা হবে না। তবুও দেখি ব্যর্থতার অজুহাত খুঁজে পাই কিনা...

সুমনের গানটা (হঠাৎ রাস্তায়...) যখন শুনছিলাম, বন্ধুদের কথা ভীষণ মনে পড়ছিলো, এখনো পড়ছে বৈকি। লুপিং টেকনলজির কারণে যখন আবার গানটা বেজে ওঠবে তখন হয়তো স্মৃতিকাতরতা পুনর্জন্মলাভ করবে। মনের ভেতরে জাগে, আমিও ভন্ড অনেকের মতো...

বন্ধুত্বের কোনো সংজ্ঞা নাই, এর পরিধি নিরুপণ করা কক্ষনো সম্ভব নয়। তবুও আমার মেজাজ চরম খারাপ হয়, যখন Friend শব্দটা যখন-তখন যেখানে-সেখানে ব্যবহার করা হয়:- এর মর্ম না বুঝেই। টু হেল উইথ দেম হু ইউজড্‌ Friend এজ মিনিংলেস রিলেশনশীপ।।

no barriers, no boundaries
but
I must say "I'm not a good friend"


এমনিই বৃষ্টিতে ভিজতাম ভিজি ভিজবো
মেঘের সাথে কোনো শত্রুতা নেই,
তীব্র রোদ মাথায়, গা জ্বলে যায় উত্তাপে
তবুও বন্ধুত্ব শুধু এক সূর্যের সাথেই....

Wednesday, November 28, 2007

সন্ধ্যায় গানের কথা-সুরে তোমাকে..


সবকথা বলতে নেই। কিছু কথা উহ্য থাকা ভালো। গানের কথা আর সুর ছুঁয়ে যাক শুধু তাকেই যে জানে সেই গোপন কথা, যার কাছে জমা আছে সমুদ্রের দু'একটি ঢেউ।।

দু'তিন ধরে আমার শরীরটাই বেশ খারাপ যাচ্ছে। শুয়ে শুয়ে কাটাচ্ছি অসুস্থ সময়। সঞ্জীব চৌধুরী ভীষণ অসুস্থ তা জানা ছিলো। বিকেলবেলা টিভির পর্দার নীচের অংশে দেখলাম মধ্যরাতে তিনি মারা গেছেন। দুঃখ পেলাম। একটু আগে যখন একাকী বিছানায় শুয়ে আছি, তখন কিছু লাইন মনের গহীনে খেলা শুরু করলো, সেই খেলাটা অশ্রু হয়ে ঠোঁটে নোনা স্বাদ দিয়ে গেলো।

চোখটা এতো পোড়ায় কেনো, ও পোড়া চোখ সমুদ্রে যাও!
সমুদ্র কি তোমার ছেলে, আদর দিয়ে চোখে মাখাও
বুক জুড়ে এই বেজান শহর হা হা শুন্য আকাশ কাঁপাও
আকাশ ঘিরে শঙ্খচিলের শরীরচেড়া কান্না থামাও
সমুদ্র কি তোমার ছেলে, আদর দিয়ে চোখে মাখাও
আমি তোমার কান্না কুড়াই, কান্না উড়াই, কান্না তাপাই
কান্না-পানি পান করে যাই এমন মাতাল কান্না লিখি
সমুদ্র কি তোমার ছেলে, আদর দিয়ে চোখে মাখি।
চোখটা এতো পোড়ায় কেনো, ও পোড়া চোখ সমুদ্রে যাও
সমুদ্র কি তোমার ছেলে, আদর দিয়ে চোখে মাখাই

আমি পাল্টে যাচ্ছি ভীষণ করে। বেঁচে আছি শুধু এই উপলব্ধিটাই আছে। 'আমি তোমাকেই বলে দেবো' বলে আর গান গেয়ে উঠবো না। কাউকেই আর কিছু বলার নেই। জীবিত আমি আবারো মৃত হলাম বলতে গিয়েই, অনেক কম সময়ে অনেক বেশীই বলে ফেলেছিলাম। বোকা আমি! আবারো হয়তো মানুষ চিনতে ভুল করেছি। তাই পুরাতন সময়টাই আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে। আমিও সাড়া দিয়ে এগিয়ে যাই... বুঝি আমি হৃদয়হীন। অযথাই কড়া নেড়েছি ভুল দরজায়। দরজা কেউ খোলেনি, বরঞ্চ আমার হৃদয়টাই দুয়ার খুলে হারিয়ে গেছে।

আমি তোমাকেই বলে দেবো,সেই ভুলে ভরা গল্প-
কড়া নেড়ে গেছি ভুল দরজায়
ছুঁয়ে কান্নার রং, ছুঁয়ে জোছনার ছায়া

আমি কাউকে বলিনি সে নাম,
কেউ জানেনা না জানে আড়াল
জানে কান্নার রং, জানে জোছনার ছায়া

তবে এই হোক তীরে জাগুক প্লাবন,
দিন হোক লাবণ্য হৃদয়ে শ্রাবণ
তুমি কান্নার রং, তুমি জোছনার ছায়া

আমি তোমাকেই বলে দেবো, কী যে একা দীর্ঘ রাত-
আমি হেঁটে গেছি বিরান পথে

কতো কাজ জমা পড়ে আছে! কিছুই করা হয়নি, প্রচন্ড মাথাধরা নিয়ে বসলাম কাজ গোছাতে। কিন্তু ভীষণ একটা কষ্ট এ লেখায় আমায় নিয়ে এলো।


কথা বলবো না আগের মতো কিছু নেই
পিছু ডাকবো না, পিছু ডাকার কিছু নেই
সর্বনাশী ঝড়, বুকে উড়ে যাবার কিছু নেই
আগুনে পুড়েছি এ হাত বাড়িয়ে পুড়ে যাবার কিছু বাকি নেই

চোখ ফিরে চায়, পাতা ঝরার দিন যায়
তবু আজীবন কান্না মেঘে দিনযাপন
আমি ভালো নেই, ভালো থাকার কিছু নেই
রাখবো না ধরে যে আর ধরে রাখার কিছু নেই

পাখি অন্য ঘরে, গান গায় অন্য সুরে
এ ঘর অন্ধকার, তারার আলো কোন ঘরে
ঘরে ফিরবো না, ঘরে ফেরার কিছু নেই
রাখবো না ধরে যে আর ধরে রাখার কিছু নেই

হৃদয়হীন আমারও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। বুঝেছি।। আগুনে পুড়েছি এ হাত বাড়িয়ে পুড়ে যাবার কিছু বাকি নেই.. এবার আর কিছু হবার নয়, শুধু ফুরিয়ে যাওয়া।।
১৮:৫৭, ১৯ নভেম্বর ২০০৭

মিছিলের গান


গা গান গান গান গান তুই গান গেয়ে যা
ঠোঁটে তুলে নে কোনো অমিত শ্লোগান
এ পথ ধরে ধরে হেঁটে চল বহুদূর
পিছে পড়ে থাক সব চেনা অভিমান।

ঐ আকাশে আকাশে কতো রঙ রোদ হাসে
কতো চেনা সুর ইশারায় ছুঁয়ে যায়
অন্ধ বধির এই থাকে পরবাসে
মুখরতা ডাকে সে ফিরে আসেনা
ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম চোখে চোখ বুজে রয়
আগামীর গান থাকে স্মৃতির ছায়ায়

ঐ মিছিলে মিছিলে ভাসে লাশ, লাশ ভাসে
প্রান্তরে পড়ে থাকা প্রান্তিক মুখ
সব দেয়ালে দেয়ালে লেখা প্রতিবাদ গান
বুলেট রুখে দেয় মানুষের বুক
ঐ সূর্য সারথী পাখি গান গেয়ে যায়
ঘুম চোখে জেগে ওঠে ভোরের মায়ায়।



মিছিলের গান

Monday, November 26, 2007

কী বিস্ময়কর পৃথিবী আমাদের!


সবুজ বৃক্ষরাজি আর লাল গোলাপের সমাহার
দেখে যাই সবকিছুই, চোখ এড়িয়ে যায়নি-
তাদের ফুটে উঠা- আমাদের হৃদয়ের আলোড়ন
ভাবনা জাগে, কী বিস্ময়কর এই পৃথিবী আমাদের!

দৃষ্টি উড়ে নীলাকাশে- চরে বসে শুভ্র মেঘের ভেলায়
ঘুম ভাঙতেই দেখি সূর্যের আশীর্বাদপুষ্ট সোনালি দিন
নিকষ কালো পবিত্রতার ছোঁয়া মিলে নয়নের আলোয়
ভাবনা জাগে, কী বিস্ময়কর এই পৃথিবী আমাদের!

রংধনুর সাতরঙা অস্পৃশ্য প্রতিচ্ছবিটা আগলে রাখে চোখ।
রং সারা পৃথিবী জুড়ে, যারা যাচ্ছে চলে পাশ কাটিয়ে
বন্ধুদের হাত মিলানো আর কুশল বিনিময় দেখে যাই-
ভাবনা জাগে, তারা বলে যায় "তোমায় ভালোবাসি"।

শিশুদের কান্নাও শুনেছি আবার বেড়ে উঠাও দেখেছি
অবাক হয়ে জেনেছি ওরাও অনেক কিছু্ই শিখে যাচ্ছে...
কতোই না রহস্য সর্বত্র! কী সুন্দর এই বেঁচে থাকা!
ভাবনা জাগে, কী বিস্ময়কর এই পৃথিবী আমাদের!

ডিসক্লেইমারঃ
Kenny G's What a wonderful world গানের আলোকে নিজের মতো করে কবিতা লেখার চেষ্টা করলাম। এ গানটার জন্য একজনের ধন্যবাদ প্রাপ‌্য। তবে এখানে সে ঋণ শোধ নাই বা করলাম!

Saturday, February 17, 2007

"বাবা, আপনাকে খুব ভালোবাসি"

এ যে রক্তের সাথে রক্তের টান- স্বার্থের অনেক ঊর্ধ্বে...
"বাবা, আপনাকে খুব ভালোবাসি।" কথাটা আজ পর্যন্ত বলতে পারিনি। ছোট বেলায় বলেছিলাম কিনা মনে নেই। কিন্তু বুঝে উঠা শিখার পর বলেছি কিনা মনে পড়ে না। অথচ বাবা কতোই না আপন।
মা-কে তুমি বললেও বাবাকে সবসময় আপনি করেই বলে এসেছি। আজও বলি। দূরত্ব? তা মনে করি না। বাবার সাথে গান শুনতাম আগেও, এখনো শুনি। যার সাথে নিজের সবচেয়ে প্রিয় কাজটি শেয়ার করতে পারি, তার সাথে কীসের দূরত্ব! বাবার সাথে সম্পর্কটা ঠিক কেমন জানি, বুঝি না। পাঁচ ভাইবোনদের মধ্যে সবার ছোট আমি। আমার প্রতি সবার ভালোবাসাটা একটু বেশীই। সবার চিন্তা আমাকে নিয়ে। স্নেহের জোয়ারে এখনো ভাসি যখনতখন।
সেদিন অবরোধ ছিলো। খুব জরুরী কাজে মতিঝিল যাওয়া খুব প্রয়োজন। আম্মাকে কোনোভাবে ম্যানেজ করলাম। আব্বা কিছুতেই রাজি হলেন না। তাঁর এক কথা- “টাকা-পয়সার ক্ষতি হলে হোক, যাওয়ার কথা মুখে এনো নাÓ।
আমার এক বন্ধুর কথা বলিঃ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময় সে কয়েকটা পরীক্ষা দিয়ে পলাতক হয়েছিলো (ভেবেছিলো ফেল করবে কিন্তু করেনি, এই না হইলো নটরডেমিয়ান!)। অনেকটা দেশভ্রমণের মতো। বেশ কিছুদিন পর সে বাসায় ফিরলো। তখন ওর বাবা ওকে ডেকে নিয়ে পাশে বসায়। তারপর ছেলেকে জড়িয়ে ধরে সে কী কান্না। বন্ধুটি ভাবতো, বাবা একটা কাঠখোট্টা মানুষ। তার ভুল ভাঙলো। আসলে বাবারা হয়তো আবেগ তেমন করে প্রকাশ করেন না।
বাবা- যার জন্যে মাকে পেয়েছি, আমি আমি হয়েছি, কতো ভালো চারটি ভাই-বোন পেয়েছি, অসীম ভালোবাসায় এতোদূর এসেছি, তাকে সহস্র সালাম। শুধু মুখ ফুটে বলতে পারি না "তোমাকে ভালোবাসি বাবা"।
জানাতে যতো যাই কথায় হারাই ততোই মানে, ভালোবাসি তোমায় তাই জানাই গানে...

"ছেলে আমার বড়ো হবে"
মাকে বলতো সে কথা,
"হবে মানুষের মতো মানুষ একলেখা ইতিহাসের পাতায়"
নিজ হাতে খেতে পারতাম নাবাবা বলতো,
"ও খোকা! যখন আমি থাকবো না, কী করবি রে বোকা! "
এ যে রক্তের সাথে রক্তের টান-
স্বার্থের অনেক ঊর্ধ্বে
হঠাৎ অজানা ঝড়ে তোমায় হারালাম
মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো;
বাবা কতোদিন কতোদিন দেখিনা তোমায়
কেউ বলেনা তোমার মতো
"কোথায় খোকা! ওরে বুকে আয়।"
বাবা কতোরাত কতোরাত দেখিনা তোমায়
কেউ বলেনা "মানিক, কোথায় আমার! ওরে বুকে আয়।"
চশমাটা তেমনি আছে,আছে লাঠি ও পাঞ্জাবী তোমার,
ইজি চেয়ারটাও আছে নেই সেখানে
অলস দেহ শুধু তোমার;
আযানের ধ্বনি আজ শুনি,
ভাঙাবে না ভোরে ঘুম জানি,
শুধু শুনি না তোমার সেই দ্বরাজ কন্ঠে পড়া
পবিত্র কুরআনের বাণী।
বাবা কতোদিন কতোদিন দেখিনা তোমায়
কেউ বলেনা তোমার মতো
"কোথায় খোকা! ওরে বুকে আয়।"
বাবা কতোরাত কতোরাত দেখিনা তোমায়
কেউ বলেনা "মানিক, কোথায় আমার! ওরে বুকে আয়।"

২০০২ এর ডিসেম্বরে যখন মা-বাবা প্রবাসে গেলেন, ভেবেছিলাম কোন ব্যাপার না। আমি হলাম আবেগহীন মানুষ। কিছুই মনেটনে পড়বে না। কাউকেই না। কিন্তু মনে পড়ে। খুব পড়ে। কাছে পাওয়ার জন্য মনটা কেমন যেনো হয়ে যায়। যখন জেমসের এ গানখানা শুনি তখন হৃদয়ক্ষরণ কে আটকায়! কিছুদিন হলো মা-বাবা দেশে ফিরেছেন। ভাবি অবসর সময়ে কোথাও যাবো না। তাঁদের সাথেই থাকবো। কিন্তু পারি না। কেমন জানি হয়ে গেছি।! সেদিন শুনলাম পথিকের বাবা অসুস্থ; পরদিন শুনি তিনি মারা গেছেন। অজান্তেই চমকে উঠলাম- আমার বাবাও তো একদিন চলে যাবেন। প্রবাসে থাকলে তো অন্তত ফোনে কথা হয়, তখন তো আর কথাও হবে না। ভাবনাগুলোকে তাড়াতে পারি না। সত্যকে একদিন বরণ করে নিতেই হবে। জীবনের একটা সত্য, সেটা হলো মৃত্যু। সবাইকে বিদায় দিতে হবে, বাবা-মা-ভাই-বোন... ভাবি যদি কাউকেই বিদায় না দেয়া লাগতো। সবার আগে আমি চলে যেতাম, তাহলে বেশ হতো।...

Sunday, November 12, 2006

বন্ধুত্ব মানে

বন্ধুত্ব মানে-
মাটি আর আকাশে সুদূরপ্রান্তে সংঘবদ্ধ দাবি,

বন্ধুত্ব মানে-
সাগর-ঝর্ণা মাঝে মিলনের তলে বয়ে চলা কোন নদী।


বন্ধুত্ব এমন একটা শব্দ যার অর্থ আজও বুঝে উঠা হলো না। হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরি। কবিতা-গান। উক্তি। কথোপকথন। গল্প-উপন্যাস-নাটক-সিনেমা। আরো কতো কীসে চলে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা। মাঝে মাঝে আনন্দে লাফিয়ে ওঠি, এই তো বুঝেছি! পরক্ষণেই হোঁচট খাই। ‘নাহ্ ইহা যথার্থ নয়’ বলতে হয়। ধর্মগ্রন্থেও চোখ রাখি; এতো নিয়ম-কানুন! মন মানে না। ধরা-বাঁধা কোন নিয়মের গন্ডিতে বন্ধুত্বকে বেঁধে ফেলতে সে রাজি নয়। সে চায় সর্বদা সর্বস্তরে বন্ধুত্বের অবাধ বিচরণ। মুক্ত বিহঙ্গের মতো। ‘বীক্ষ্যমান’ বিশেষণে বিশেষণীয় হয় না বন্ধুত্ব।


বন্ধুত্বকে শুধু একটি কথায় বা শুধু একটি গানে কিংবা শুধু একটি কবিতায় সংজ্ঞায়িত করা যায়নি; এক কথোপকথনেই সীমাবদ্ধ করা যায়নি তার সীমানা। বন্ধুত্বের গভীরতা প্রকাশ সম্ভব হয়নি একটি মাত্র গল্পে অথবা উপন্যাসে। একখানা নাটক অথবা একখানা সিনেমা বানিয়েই বন্ধুত্বের মডেল বা আইকন স্থাপন করা যায় নি। বন্ধুত্ব নিয়ে লেখা হয়েছে কতো না কবিতা-গল্প-উপন্যাস! বন্ধু বন্ধুকে গেয়ে শুনিয়েছে কতো না গান! কতো না কথোপকথন! কথা চলছে অবিরাম বন্ধুকে নিয়ে। ছোট-বড়ো পর্দায় ভেসে উঠছে কতো না নাটক-সিনেমা! চলছে... চলবেই।


যাকে বন্ধু বলে পরিচয় দেই, কখনো কি ভেবে দেখেছি কেন তাকে বন্ধু বলছি।! না, ভাবি না। বন্ধুত্ব কোন সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা বিচার করে না। বয়সে বন্দি নয় বন্ধুত্ব। লিঙ্গান্তর নিয়ে বিভেদ নেই বন্ধুত্বে। শিক্ষা-অর্থবিত্ত-ধর্ম মানে না বন্ধুত্ব। কখনো কখনো রাস্তার একজন অশিক্ষিত টোকাই বন্ধু হয়ে যায়। বন্ধু শিক্ষিত হতে হবে এমন তো কোন কথা নেই। কখনো কখনো একজন অসুন্দর মানুষ প্রাণের বন্ধু হয়ে যায়। বন্ধুত্বেই পবিত্র সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায়। একজন চরম নাস্তিকও বন্ধু হয়। বন্ধুত্ব যে কখন কোথায় তার স্থান দখল করে তা কেউ বলতে পারেনি, পারবেও না।

জয়... বন্ধুত্বের জয়।।


বন্ধুত্বের অসংখ্য গানের সমারোহ হতে একটি গান, সবার জন্য-


বন্ধুত্ব মানে-
বয়সের সাথে বয়সের মিল নয়
বন্ধুত্ব মানে-
মনের সাথে মনের, গোপনে হয়ে যাওয়া পরিচয়।


বন্ধুত্ব মানে-
একাকীত্বের প্রতি অভিশাপ
বন্ধুত্ব মানে-
খুব প্রয়োজনে, খুঁজে পাওয়া ওই দুটি হাত।


বন্ধুত্ব মানে-
কবিতা কিংবা গানে
শব্দে-বর্ণে ছন্দের মতো নয়
বন্ধুত্ব মানে-
ছবির মতো করে
চোখে চোখ রেখে কথোপকথন নয়।


বন্ধুত্ব মানে-
মাটি আর আকাশে
সুদূরপ্রান্তে সংঘবদ্ধ দাবি
বন্ধুত্ব মানে-
সাগর-ঝর্ণা মাঝে
মিলনের তলে বয়ে চলা কোন নদী।


বন্ধু আমার, যেখানেই থেকে যাও
খুঁজে পেতে পারি হঠাৎ স্মরণে
বন্ধুত্বের ছলে, ছলে-বলে-কৌশলে
ধরা দিয়ো না মিছিমিছি ভালোবেসে;
বন্ধুত্ব মানে-
গোটা পৃথিবীটা তোমার
হতে পারে বন্ধুত্বের দাবিদার
বন্ধু আমার, বন্ধু তোমার,
বন্ধু তুমি হয়ে যেতে পারো সবার।